সন্ধ্যার প্রাসাদে অতীতের প্রতিধ্বনি
সাপ্তাহিক ছুটির দিনে মধ্যাহ্ন ভোজনের পর ভাতঘুমের সুখটাকে শিকেয় তুলে দুই চাকার যন্ত্র শকটের পিঠে চেপে বসেছিলাম প্রিয় ভ্রমণ সঙ্গীনির সাথে। হলদে-সবুজ মাখা সদ্য শীষ বেরনো অবারিত ধান ক্ষেতের মাঝে সর্পি ল পিচ ঢালা রাস্তায় চলেছিলাম আমরা মাথার উপর শিরিষ, কড়ই আর ইপিল-ইপিল এর আলোছায়া মেখে। সূয্যিমামা কখনও তীব্র আলো ছড়াচ্ছেন, কখনওবা বিশাল একখন্ড মেঘের আড়ালে লুকিয়ে বক্রাকার আলোক রেখা হয়ে অস্তিত্ত্ব জানান দিয়ে চলেছেন। আলমডাঙ্গার পুরাতন লাল-ব্রিজ পার হয়ে কুমারি গ্রামের প্রাচীন প্রাসাদে পৌছতেই বেলা প্রায় পড়ে এল। সামনের বিশালাকার রেইনট্রি আর বোতল ব্রাশ এর পাতার ফাঁক গলে আসা ক্লোরোফিল ধোয়া সবুজ আলো যেন অলস আটকে গিয়েছিল বারান্দার কাল মেঝেয়। আর বন্ধ দরজার ওপার থেকে ফিসফিসানি ধ্বনির সাথে ভেসে আসছিল পুরাতন দিনের জমিদারীর হাঁকডাক আর পুজা-অর্চনার টুং-টাং ঘন্টাধ্বনি। এককালে হয়তো দোতলায় দক্ষিণের শেষ কামরা থেকে গভীর রাতে ভেসে আসতো বিষন্ন রাজকণ্যার খালি গলায় গাওয়া গান, কখনওবা হাসির ঝংকারে, নুপুরের নিক্কণে মুখর থাকত এই দালান -- আজ সেসব কেবল নৈঃশব্দের প্রতিধ্বনি হয়েই আটকে আছে কড়ি বর্গার ফ্রেমে কিংবা চুন-সুরকি...